HomeUncategorizedঅবসর জনিত কারণে সুশীল চন্দ্র সরকারের রাজসিক বিদায়

অবসর জনিত কারণে সুশীল চন্দ্র সরকারের রাজসিক বিদায়

print news

ফজলার রহমান গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুতি মাহমুদ মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব সুশীল চন্দ্র সরকারের সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণে মান্যবর, কর্মবীর, জ্ঞানতাপস,শিক্ষাগুরু নানা উপাধিতে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অশ্রুজ্বলে সিক্ত হয়ে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩১ ডিসেম্বর রবিবার সুতি মাহমুদ মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বৃন্দের আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে বিদায়ী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এ কে এম মোকসেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মন্ডল,উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ারা বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম,গ্রিনফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যাক্ষ রামদেব বাবু,পিয়ারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিল্টন সরকার, আমলাগাছি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম, পলাশবাড়ী প্রেস ক্লাব সভাপতি ফজলুল হক দুদু, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রতন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ছাড়া ও অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রধান শিক্ষক জনাব সুশীল চন্দ্র সরকারের কর্মজীবনে গুণমুগ্ধ হয়ে পলাশবাড়ী ছুটি মাহমুদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপাধি স্বরূপ উল্লেখ্য,

হেমান্য বর,
আজ ব্যথা তুহৃদয়ের সালাম অশ্রু সজল প্রীতি গ্রহণ করুন। শিক্ষকতার মহান ব্রত নিয়ে আপনি এসেছিলেন এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠে। সুদীর্ঘ দিন প্রধান শিক্ষক হিসেবে সগৌরবে দায়িত্ব পালনের পর আজ বেজে উঠেছে বিদায়ের বেদনার সুর। ভাষা আজ স্তব্ধ। আমাদের অন্তরে আজ কেবলই ধ্বনিত হচ্ছে –
“কন্ঠ আমার রুদ্ধ আজিকে,
বাঁশি সংগিত হারা
আমাবস্যার কারা….।

হে মহান কর্মবীর,
আমাদের পরম সৌভাগ্য যে, আমরা আপনার মতো একজন কর্মঠ, উদারচিত্ত, সুদক্ষ, ও প্রঙ্গাবান শিক্ষকের কাছে শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছি। আপনার কাছ থেকে আমরা কোনোদিন কোনোকিছুর অভাব বোধ করিনি।আজ আমাদের হৃদয়পটে বারবার ভেসে উঠেছে আপনার স্মৃতিবিজড়িত হিরন্ময় মূহুর্তগুলো।কথা দিচ্ছি আপনার দেয়া আলো থেকে আমরা আলো ছড়াবো দিগ -দিগন্তে।আপনার বিচ্ছেদবেদনা আমাদের কোমল হৃদয়কে গভীরভাবে ব্যাথাতুর করেছে –
এতো আশা ভালোবাসা,
এতই নিরাশা,এতো দুঃখ কেন?

হে জ্ঞান তাপস,
আপনার মধুর ব্যবহার আচার -আচরণ ও চারিত্রিক মহত্ব আমাদের ও আপনার মাঝে যে আত্মার বন্ধন সৃষ্টি করেছে তা কখনো মুছে যাবার নয়।আপনি নিরলস চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের জীবনের সুন্দর ভাবে গড়ে তুলেছেন। বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্য -পরিচালনায়, পঠন -পাঠনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে আপনার তুলনা আপনি নিজেই। তাই আমাদের কন্ঠ থেকে আজ অবলীলায় উচ্চারিত হচ্ছে –
“কত রাজ্য, কত রাজা, গড়িছ নীরবে হে পূজ্য,
হে প্রিয়, একত্বে বরেণ্য তুমি শরণ্য এককে।

হে মহান শিক্ষাগুরু,
আজ এই বিদায়ের মুহূর্তে বহু স্মৃতির জটলায় বিহাহম্বল বেদনায় ভাষা বড়ো বেশি কুন্ঠিত, কত কথাই তো থাকলো অব্যক্ত।শুধু আপনার পানের চেয়ে মনে হচ্ছে –
“হাসি দিয়ে যদি লুকালে তোমার সারা জীবনের বেদনা, আজো তবে শুধু হেসে যাও, আজ বিদায়ের দিনে কেঁদোনা।

শিক্ষার্থীবৃন্দের এমন শ্রদ্ধাঞ্জলির মধ্যে দিয়ে প্রিয় স্যারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে অবসসর জীবনে সুখময় ও কল্যানময় কামনা শেষে মধ্যাহ্ন ভোজের মধ্যে দিয়ে বিদায়ী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।##√√

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ

দশ জনপ্রিয় সংবাদ