Homeসারাদেশচুয়াডাঙ্গা১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চুয়াডাঙ্গায় আধুনিক রেলওয়ে স্টেশন ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধনকালে এমপি...

১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চুয়াডাঙ্গায় আধুনিক রেলওয়ে স্টেশন ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধনকালে এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার

print news

জনতার ডাক:
১৮৫৯ সালে নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে দ্বিতল বিশিষ্ট আধুনিক স্টেশন ভবন, কার পার্কিং প্লাটফর্ম ও শেড পুনঃনির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। এ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) অসীম কুমার তালুকদার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মনজু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রিয়াজুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিম) আসাদুল হক।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিম) আহসান জাব্বির, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাইফুল হাসান জোয়ার্দ্দার টোকন, আরেফিন আলম রঞ্জু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. নুরুল ইসলাম, জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. বেলাল হোসেন, জেলা নারী ও শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকউিটর (পিপি) অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন হেলা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান কচিসহ রেলওয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, চুয়াডাঙ্গা থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টায় রাজশাহী পৌঁছানো যায়। রাজশাহী থেকে ভারতগামী ট্রেন দর্শনা পৌঁছাতেও সময় লাগে মাত্র ৩ ঘণ্টা। এরপর চেকপোস্টের কার্যক্রম শেষে সব মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা পৌঁছানো যায়। বর্তমান সরকার এই রেল ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের জন্য সুন্দরভাবে পরিচালনা করে চলেছে। এই রেল বিএনপির সময় প্রায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই রেল যোগাযোগে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। যার সুফল চুয়াডাঙ্গাবাসী পাচ্ছে। রেলের সুযোগ-সুবিধা যেন মানুষ যেন আরও উপভোগ করতে পারে, সেদিকে আমদের সকলের মনযোগ দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। যদিও আমরা এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মতো এত উন্নয়নে পৌঁছাতে পারিনি। কিন্তু বন্ধপ্রায় রেল যোগাযোগকে এতদূর পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। এখন ট্রেন ঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছায়। আমি উপর মহলে কথা বলব, যেন চুয়াডাঙ্গার জন্য একটু বেশি বেশি টিকেট পাওয়া যায়। রেল আরও গতিশীল হোক, আরও এগিয়ে যাক, দেশ এগিয়ে যাক। সবাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করবেন। নেত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করে আগামী নির্বাচনে সকলে নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নেবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’ এসময় এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে দ্বিতল বিশিষ্ট আধুনিক স্টেশন ভবন, কার পার্কিং প্লাটফর্ম ও শেড পুননির্মাণ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা একটি কৃষি প্রধান জেলা এবং কৃষিপণ্য ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আনা নেওয়ার কাজে রেল যোগাযোগ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক এখানে আছেন, সম্মানিত মহাব্যবস্থাপকের মাধ্যমে দাবি জানায়, যদি সুযোগ থাকে বিধি মোতাবেক রাজশাহীতে যেমন এগ্রিকালচারাল ট্রেন রয়েছে, তেমনই যদি চুয়াডাঙ্গার জন্যও যদি এগ্রিকালচার ক্ষেত্রে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা যায়, এছাড়াও চুয়াডাঙ্গার মানুষের যে সকল দাবি আছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা বিবেচনায় নিবেন এই আশা ব্যক্ত করছি।’

চুয়াডাঙ্গার কয়েকজন কৃতী সন্তান রেলওয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হওয়ায় চুয়াডাঙ্গাবাসী ভাগ্যবান মন্তব্য করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় যে কাজটি হতে যাচ্ছে সেটি ১০ কোটি টাকার ওপরে। সাধারণত মেরামতের জন্য এতো টাকা কোথাও ব্যয় হয় না। সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকার কাজ হতে আমি দেখেছি। এটা আসলে ছোট খাটো একটা ষড়যন্ত্র বলতে পারেন। আমাদের প্রধান প্রকৌশলী এসেছিলেন এটা দেখাতে। আমি বললাম এতো টাকা, এই টাকা দিয়েই তো আলমডাঙ্গা, হালশাসহ অন্য স্টেশনের কাজ করে ফেলতে পারি। তো প্রধান প্রকৌশলী বলেন, স্যার আমি বাড়িতে যেতে পারি না। গেলে এমপি মহোদয় বলে কিছু একটা করতে হবে। সে আবার আরেকজনকে সাথে করে নিয়ে এসেছে। তারও বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। তো ভাব-চক্কর দেখে আমি স্বাক্ষর করে দিলাম। এটা একটা পজিটিভ ষড়যন্ত্র। আপনারা চুয়াডাঙ্গায় বাড়ি রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলীকে ধন্যবাদ জানাতে পারেন।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার রেলবান্ধব সরকার। সরকার রেলের উন্নয়নে নানা রকম পদক্ষেপ নিয়েছেন। রেলের সেবা সহজতর হচ্ছে।’

জেনে নিই আধুনিক রেলওয়ে স্টেশনের খুটিনাটি:
১৮৫৯ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি কোলকাতা-কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত ব্রডগেজ সিঙ্গেল রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু করলে একই বছর চুয়াডাঙ্গা স্টেশনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এবং কাজ শেষ হয় ১৮৬০ সালে। সেই থেকে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনটি চুয়াডাঙ্গা শহর ও তার পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ এলাকার লোকজনকে পরিসেবা প্রদান করে আসছে। বর্তমানে এই ১৬৪ বছরের অধিক পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনটি জড়াজীর্ণ ও ভগ্নপ্রায় হওয়াতে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক বিদ্যমান স্টেশন ভবনটি ভেঙ্গে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত স্টেশন ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত স্টেশন পাবে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার মানুষেরা। ১০ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ৬৮৯ দশমিক ১৩৮ টাকা ব্যয়ে দ্বিতল বিশিষ্ট আধুনিক স্টেশন ভবন, কার পার্কিং, প্লাটফর্ম ও শেড পুনঃনির্মাণ করা হবে। আধুনিক সুবিধা-সম্বলিত ১২ হাজার ৪৭০ বর্গ ফুট ফ্লোর এরিয়ার দ্বিতল স্টেশন ভবন নির্মাণ করা হবে। যাত্রী সাধারণের আরামদায়ক ও নিরাপদ গতিবিধির লক্ষ্যে স্টেশন ভবনের প্লাটফর্মকে ১২ ফুট থেকে ২৫ ফুট প্রশস্ত করা হবে। এছাড়া স্টেশন ভবনের সেড আধুনিকায়ন করা হবে এবং স্টেশনের সামনে সুবিশাল ও দৃষ্টিনন্দন আধুনিক পার্কিং তৈরি করা হবে। এ কাজের সময়কাল ধরা হয়েছে ৫৪০ দিন। চুয়াডাঙ্গার আধুনিক রেল স্টেশন নির্মাণের ডিজাইন করেছে ঘর ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ

দশ জনপ্রিয় সংবাদ